Ad
x
সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততার সন্দেহ বিএফআইইউ’র

টেলিগ্রামভিত্তিক ফাঁদে এক ব্যক্তির ৩৫ লাখ টাকা উধাও

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৭০ বার পঠিত

টেলিগ্রামভিত্তিক ফাঁদে এক ব্যক্তির ৩৫ লাখ টাকা উধাও

টেলিগ্রামভিত্তিক ভুয়া বিনিয়োগ স্কিমের মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় একটি সংগঠিত প্রতারণা ও অর্থপাচার চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পেয়েছে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ)। সংস্থাটির বার্ষিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহের পর তা দ্রুত বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে লেনদেনের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিএফআইইউর ‘কেস স্টাডি’ভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক ভুক্তভোগীকে টেলিগ্রামের একটি ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে বেশি মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ জমা দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। প্রাথমিকভাবে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জনের পর পরবর্তী সময়ে আরও বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মোট ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বেশি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে জমা দেন। পরে ওই অর্থ জাতীয় পেমেন্ট সুইচ (এনপিএসবি), মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, অর্থগুলো ৪০টিরও বেশি হিসাবে ছোট ছোট অংশে স্থানান্তর করা হয়। এই কৌশলকে ‘স্মার্ফিং’ বলা হয়, যা অর্থপাচারে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। এতে বড় অঙ্কের অর্থকে ছোট ছোট লেনদেনে ভাগ করে বিভিন্ন হিসাবে পাঠানো হয়, যাতে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থায় সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে ধরা না পড়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে। এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে অর্থ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিএফআইইউর বিশ্লেষণে কয়েকটি হিসাবধারীর কাছে বড় অঙ্কের অর্থ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে ব্যবহৃত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামগুলো কাল্পনিক এবং বাস্তব ঘটনার উপস্থাপনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর ঘোষিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ ও ধরণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। সাধারণত যেসব হিসাবে সীমিত লেনদেন হওয়ার কথা, সেগুলোতে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও স্থানান্তরের ঘটনা সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয়েছে।

বিএফআইইউ মনে করছে, এটি একক ব্যক্তির প্রতারণা নয়; বরং সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত একটি সমন্বিত জালিয়াতির অংশ হতে পারে। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন, মেসেজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের টার্গেট করে। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ ও পাচার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম দিকে সামান্য মুনাফা ফেরত দিয়ে গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করা হয়, এরপর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

বিএফআইইউ নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিনিয়োগ প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি, দ্রুত আয় করার প্রলোভন, ব্যক্তিগত ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবে অর্থ জমার অনুরোধ এবং অচেনা অনলাইন গ্রুপে যোগ দেওয়ার আহ্বানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্তে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারীদের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের সংগঠিত প্রতারণা ও অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৮:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com